আজ শনিবার, ৩০শে মে, ২০২০ ইং, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আম্পানের তাণ্ডবে ডুবে গেছে কলকাতার বিমানবন্দর, বিধ্বস্ত পশ্চিমবঙ্গ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ পর্যন্ত সেখানে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পানিতে থইথই করছে পুরো বিমানবন্দর।

বুধবার ঘণ্টায় ১৩৩ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যাওয়ায় কলকাতা বিমানবন্দরের বেশ কিছু জায়গায় ভেঙে পড়েছে শেডিং। প্লেনের ওপরেও পড়েছে। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও বলা যাচ্ছে না।

হিন্দুস্তান টাইমসের একাধিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

অন্যদিকে আম্পানের প্রভাবে হাজার হাজার বাড়ি ধসে পড়েছে, নিচু জায়গা ডুবে গেছে,পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গাছ চাপা পড়ে মারা গেছে অনেকে।

এরমধ্যে উত্তর ২৪ পরগনায় গাছ পড়ে মারা গেছেন মৃত এক পুরুষ ও মহিলা। হাওড়ায় ১৩ বছরের এক কিশোরী একইভাবে মারা গিয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনায় মারা গেছেন তিন জন।

এছাড়া কলকাতার রিজেন্ট পার্ক অঞ্চলে একজন মহিলা ও তার সাত বছরের ছেলে মারা গেছেন গাছ পড়ে। ঝড়ে উড়ন্ত বস্তুর আঘাতে কলকাতায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে মোট কতজন মারা গেছে তা এখনও নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। যেসব জায়গায় সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে যোগাযোগই করা যায়নি।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন: সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনায়। ৯৯.৯৯ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। পুরো পরিস্থিতির রিপোর্ট পেতে ৩-৪ দিন লাগবে।

বুধবার সাগর অঞ্চলে আছড়ে পড়ে ঝড় আম্পান। ১৯০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া চলেছে। কলকাতায় হাওয়ার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩৩ কিলোমিটার।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কলকাতার অনেক জায়গা এখনও পানির নিচে ডুবে রয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ, ইলেকট্রিকের খুঁটি ভেঙে গেছে। দুই পরগনায় প্রচুর কাঁচা বাড়ি ভেঙেছে। আলোও নেই, ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবাও খুব ক্ষীণ।

সুন্দরবনের হালও খুব খারাপ বলে জানিয়েছেন রাজীব সিনহা। বহু জায়গায় বাঁধানো ঘাট ভেঙে গিয়েছে ঝড়ের তীব্রতায়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আম্পান মোকাবেলায় প্রাথমিক বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিনি স্তম্ভিত, স্বজন হারানোর বেদনা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মমতা।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

     এই বিষয়ের আরো সংবাদ